রবিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২১ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পরীমনি (The Angel)

ঈশানা মেহজাবিন
১৮ জুন ২০২১ ১০:৪৫ |আপডেট : ১৯ জুন ২০২১ ০০:১০
জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পরীমনি
জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পরীমনি

পরীমনি। খুবই আকর্ষণীয় মিষ্টি একটি মেয়ে। সৌন্দর্যে কোনো কমতি নেই তার। অভিনয় দক্ষতাও দারুণ। একজন পূর্ণাঙ্গ সুন্দরী নারী, একজন চলচ্চিত্র নায়িকা হতে যা যা দরকার সব বৈশিষ্ট্য আছে তার। চেহারায় যেমন আছে কোমনীয়তা, অভিনয়েও তেমন দারুণ। সংলাপ বলার ধরনে নায়িকাসুভল আতিশয্য নেই তার, শুনতে যেন ঘরের মেয়ে।

কিন্তু সমস্যা কোথায়? মিষ্টি এই মেয়েটিকে সবাই গালি দেয় কেন? তার ফেসবুক পেজ ফলো করে কোটি মানুষ। তারা কী শুধু গালি দিতে যায় সেখানে! তারা পরীর সৌন্দর্য উপভোগ করে মজা নেয়, শেষে একটা গালি দিয়ে আসে। এই পাশবিক আনন্দে কী সুখ তাদের তারাই জানে। তবু নিশ্চয়ই তারা স্বীকার করবে, পরীতে কোনো কিছুর কমতি নেই। পরীমনি (The Angel)।

সম্প্রতি এক ঘটনায় চিত্রনায়িকা পরীমনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। পরী দাবি করছেন, উত্তরার বোট ক্লাবে আবাসন ব্যবসায়ী, জাতীয় পার্টির নেতা নাসির উদ্দিন মাহমুদ তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছেন। সেই অভিযোগের মামলায় গ্রেপ্তারও হয়েছেন তিনি। এই ঘটনায় একটু দেরিতে হলেও প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন পরী। তার কান্না দেখেও লোকে তাকে গালি দিচ্ছে। সে নাকি অভিনয়ে পারদর্শী। পুরোটাই নাকি কোনো একটা চাল! এমনও বলতে শোনা যায় লোকজনকে। তাহলে কি স্বীকার করছেন, পরী ভালো অভিনেত্রী?

কিন্তু হতেও তো পারে পরী যা বলছে তা সত্যি। একটা মেয়ে যেমনই হোক না কেন, আকস্মিকভাবে অনিচ্ছাকৃত শারীরিক আক্রমণ তারা সহজে মেনে নিতে পারে না। হয়তো ঘটনাটি মনে পড়লে গা ঘিন ঘিন করে। তবু তাকে হজম করতে হবে? সে প্রতিবাদ করবে না? তাতেও তার দোষ?

অনেকে বলছেন, পরীমনির পোশাকে সমস্যা। তার পরিধেয় পোশাক পুরুষকে ধর্ষণে প্রলুব্ধ করে। তাই ঘটনা সত্যি হলেও নাকি দোষ পরীর। কারণ পরীকে হয়তো একা পেলে হামলা না করে সসম্মানে ছেড়ে দেওয়ার মতো সাধু পুরুষ কম পাওয়া যাবে। এই দোষও পরীর???

আরে ভাই, আর কত? একটা মেয়েকে কতটা অপদস্থ করা যায়! সে চিত্রনায়িকা-অভিনেত্রী। আপনি কি তাকে বোরকা পরা প্রত্যাশা করেন? আপনি স্বেচ্ছায় তাকে ফলো করেন, তার সৌন্দর্য উপভোগ করেন। সমাজের সনামধন্য নারী লোভী থেকে সাধারণ মানুষের অনেকেই তার সৌন্দর্যে আকৃষ্ট হয়েছেন। তবে

যতদূর জেনেছি খেয়ালি স্বভাবের শামসুন্নাহার স্মৃতি ওরফে পরীমনি ছোটবেলা থেকেই মা-বাবার আদর থেকে বঞ্চিত। পরিবারের ছায়ায় বড় হতে না পারা একটা মানুষের জন্য চরম দুর্ভাগ্য। আর চলচ্চিত্র অঙ্গনে নিজের জায়গা তৈরি করতে তাকে অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে। হাত ধরে টেনে তোলেনি কেউ তাকে। একটু একটু করে নানাভাবে চেষ্টা করেছে সে। এই যে সংগ্রাম, এই যে ত্যাগের নিশ্চয়ই মূল্য আছে। অনেকে তার উপার্জন-বিলাসী জীবন নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। জানা উচিত, প্রত্যেকের জীবনের দায় তার। আপনি তো তার সমস্যায় উপকারের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন না। পরীমনি পরীর মতো করে তার নিজের জীবন সাজিয়ে নিয়েছে। তবে হ্যাঁ, জীবনে ঘটে যাওয়া ছোটবড় প্রত্যেকটা অপ্রত্যাশিত কিংবা বাধ্য হয়ে করা কিছু কাজের জন্য নিশ্চয়ই মানুষের অনুশোচনা হয়-কষ্ট হয়, নিশ্চিত পরীমনিরও হয়।

তবু কত অবিচল পরীমনি। দেখতে যতই কোমল হোক না কেন পাথরের মতো শক্ত তার মনোবল। নয়তো লাখ লাখ নিন্দুকের ট্রল কি সহ্য হতো তার?



মন্তব্য করুন