শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১ | ১ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পিপিপি ঋণের ভাগ অংশীদারকে না দেওয়ার কৌশল

নিউইয়র্কে ব্যবসার ঋণের হিসাব চাওয়ায় অংশীদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, যুক্তরাষ্ট্র
১০ অক্টোবর ২০২১ ২২:৪৬ |আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২১ ০৪:৩৯
নিউইয়র্কে ব্যবসার ঋণের হিসাব চাওয়ায় অংশীদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ
নিউইয়র্কে ব্যবসার ঋণের হিসাব চাওয়ায় অংশীদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে করোনা মহামারিকালীন সময়ে পারিবারিক যত্ন (হোম কেয়ার) ব্যবসার পে-চেক প্রোটেকশন প্রোগ্রাম (পিপিপি) লোনের অর্থের হিসাব চাওয়ায় উল্টো অংশীদারের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন গোল্ডেন এজ হোম কেয়ারের প্রেসিডেন্ট ও সিইও শাহ নেওয়াজ। গত বছর করোনা মহামারিকালীন সময়ে বেঙ্গল ও গোল্ডেন এজ হোম কেয়ারের প্রায় সাড়ে ৫ লাখ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪ কোটি ৪৮ লাখ ৭৪ হাজার টাকা) লোন গ্রহণ করেন (যা সম্পূর্ণ অফেরত যোগ্য ও মওকুফকৃত)। গত ৬ মাস ধরে লোনের হিসাব চাচ্ছিলেন ব্যবসার অংশীদার যন্ত্রশিল্পী পার্থ গুপ্ত। পিপিপি ঋণের সঠিক হিসাব না দিয়ে টালবাহানা করে আসছিলেন শাহ নেওয়াজ। ঋণের ভাগ অংশীদারকে না দেওয়ার জন্য তিনি ভিন্নপন্থা অবলম্বন করেন। অংশীদারিত্বের হিসাব থেকে দূরে থাকার জন্য শাহ নেওয়াজ সুকৌশলে পার্থ গুপ্তের নামে পুলিশের কাছে জীবন নাশের অভিযোগ করেন।

নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রে জানা গেছে, বেশ কয়েক বছর আগে নিউইয়র্ক প্রবাসী ইন্সুরেন্স ব্যবসায়ী শাহ নেওয়াজ ও নিউ ইয়র্কের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে পরিচিত মুখ যন্ত্রশিল্পী (কিবোর্ড বাদক) পার্থ গুপ্ত যৌথভাবে পারিবারিক যত্ন (হোম কেয়ার) ব্যবসা শুরু করেন। গত ২০২০ সালে করোনা মহামারিকালীন সময়ে ব্যবসার কিছুটা ক্ষতি দেখা দিলে বেঙ্গল ও গোল্ডেন এজ হোম কেয়ারের জন্য পৃথক পৃথকভাবে পে-চেক প্রোটেকশন প্রোগ্রাম (পিপিপি) লোনের আবেদন করেন প্রেসিডেন্ট ও সিইও শাহ নেওয়াজ।

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৯ ও ২১ মে ২০২০ ক্রোস রিভার ব্যাংক দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য ৫ লাখ ২৪ হাজার ৭২৯ ডলারের লোন অনুমোদন করে। উক্ত লোনের ব্যাপারে অন্যান্য অংশীদারের কাছে সঠিক হিসাব দিতে টালবাহানা করেন শাহ নেওয়াজ।

এ বিষয়টি নিয়ে গত ৬ মাস ধরে পার্থ গুপ্তর সাথে তার নানা রকম দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। গত সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে শাহ নেওয়াজ নিউইয়র্ক পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন যে পার্থ তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছে। তিনি পুলিশের কাছে তার নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেন। মামলার ডকেট নম্বর-‘সিআর-০২০৫৬০-২১ কিউএন’। এর পরিপ্রেক্ষিতে নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্টের জ্যাকসন হাইটসের নর্দার্ন ব্লুভার্ড-১১৫ এলাকার পুলিশ গত সোমবার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পার্থকে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুলিশ স্টেশনে তাকে আটক রাখা হয়।

পরদিন মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) ক্রিমিনাল কোর্টের বিচারক পার্থের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। মামলার বাদী শাহনেওয়াজ থেকে দূরত্ব বজায় রাখারও নির্দেশ দেন আদালত। আগামী ২০ জানুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।



মন্তব্য করুন