শনিবার, ২৪ জুলাই ২০২১ | ৯ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

প্রজন্মকে মাদকে নিরুৎসাহিত করতে চাকরির আগে, ডোপ টেস্ট জরুরি

সামছুল আলম সাদ্দাম
১২ জুলাই ২০২১ ১৯:১৬ | আপডেট : ১২ জুলাই ২০২১ ২১:৫১
সামছুল আলম সাদ্দাম। লেখক, সাংবাদিক
সামছুল আলম সাদ্দাম। লেখক, সাংবাদিক

সমাজের একটি প্রধান সমস্যা হলো মাদকসেবন। কারণ মাদকদ্রব্যের প্রভাবে সমাজে অপরাধ এবং অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাদকে ঘিরে ফেলছে সমাজ। প্রচুরসংখ্যক নারী-পুরুষই মাদকে আসক্ত। এত এত সচেতনতা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযান ও বিপুল মাদকদ্রব্য আটক সত্ত্বেও কিন্তু এর ব্যবহার কমানো যাচ্ছে না। সম্প্রতি জানা গেছে, মাদকাসক্তদের জন্য চাকরির দরজা বন্ধ রেখে চূড়ান্ত করা হচ্ছে ডোপ টেস্ট বিধিমালা ২০২১। এমনকি ডোপ টেস্ট পজিটিভ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জেল-জরিমানার সম্মুখীন হতে হবে।

এই বিধিমালা প্রয়োগ করা হলে আশা করা যায় আজকের তরুণ সমাজ মাদক গ্রহণ থেকে বিরত থাকবে, যদি তারা একটি চাকরি করতে চায়। কারণ একজন মাদকসেবী কোনো স্তরেই ভালো সেবা দিতে পারে না। আবার তাকে বিরত করার উপায়ও থাকে না। কিন্তু যদি চাকরির শুরুতেই মাদক গ্রহণে নিরুৎসাহিত করা যায় তাহলে মাদক গ্রহণের হার দিন দিন কমতে থাকবে। কারণ আমাদের দেশে নিত্য নতুন মাদকের আবির্ভাব ঘটছে।

বিড়ি, সিগারেট, জর্দার তামাক পাতা, গাঁজা, ফেনসিডিল, ভাং থেকে শুরু করে হালের ইয়াবা এখন শহরের গণ্ডি পেরিয়ে গ্রামগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঢুকে কালো থাবা বিস্তার করে বসেছে। পাওয়া গেছে আইস নামের মাদকের অস্তিত্ব। যার প্রভাবে শিক্ষিত তরুণ সমাজ হারিয়ে যাচ্ছে অন্ধকারে। এসব শিক্ষিত তরুণকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে হলে তাদের মাদক থেকে দূরে রাখতে হবে। এজন্যই দরকার ডোপ টেস্ট। এসব তরুণ-তরুণীর মধ্যে একটি শঙ্কা কাজ করবে যে, ডোপ টেস্টে পজিটিভ হলে তার উন্নত ক্যারিয়ারের স্বপ্ন নষ্ট হবে। এভাবে স্কুল-কলেজ পড়ুয়াদের মধ্যেও একই প্রবণতা কাজ করবে। সরকারি বা বেসরকারি সব ধরনের চাকরিতেই যখন ডোপ টেস্ট করা হবে তখন মাদক গ্রহণে নিরুৎসাহিত হবে আজকের তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ।

প্রস্তাবিত বিধিমালায় চাকরি ছাড়াও ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নের ক্ষেত্রে, কর্মরত অবস্থায় গাড়ি চালকদের বিরুদ্ধে মাদকসেবনের সন্দেহ এবং সরকারি-বেসরকারি উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের কারও বিরুদ্ধে মাদক গ্রহণের সন্দেহ হলে ডোপ টেস্ট করা যাবে। সারাদেশে ছড়িয়ে পড়া মাদকের ভয়াবহতা থেকে যুব সমাজকে বাঁচাতে দরকার ছিল তাদের মাদকে নিরুৎসাহিত করার একটি পন্থা। এর ফলে মাদকের ভয়াবহ প্রভাব থেকে ব্যক্তি নিজেই বের হয়ে আসতে পারবে। অভিভাবকমহল আরো বেশি সচেতন হবে এবং সন্তানকে কঠোর নজরদারিতে রাখতে পারবে। কারণ প্রত্যেক বাবা-মা সন্তানের জন্য উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে।

মাদকের ফলে সমাজে বাড়ছে অস্থিরতা। বৃদ্ধি পাচ্ছে অপরাধ। সন্তান মাদকের টাকার জন্য তার মা-বাবার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। ফলে পারিবারিক অশান্তির কারণও এই মাদকদ্রব্য। সর্বনাশা মাদকের দিকে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আছে ছাত্রসমাজ। অনেক ছাত্রের স্কুল ব্যাগে বই-খাতার সঙ্গে থাকছে মাদকদ্রব্য। ভয়টা এখানেই বেশি। যাদের অন্যদের এই পথ থেকে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব পালন করার কথা তারাই এই পথে পা বাড়াচ্ছে। সিগারেটের প্যাকেটের গায়ে ধূমপানের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে লেখা থাকে। টিভিতে নেশা জাতীয় কোনো পদার্থের দৃশ্য এলেও এর ক্ষতিকরের দিকটা লেখা থাকে। এটা দেখেও কিন্তু সবাই সিগারেট, মদ খায়। পরিণতি জেনেও মৃত্যুকে আলিঙ্গন করা কেন। আজকের দিনে শিশুরাও বিড়ি-সিগারেট কিনছে খাচ্ছে। স্কুল ফাঁকি দিয়ে বা অভিভাবককে ফাঁকি দিয়ে কীভাবে একটি ছেলে সিগারেট হাতে তুলছে তা নিয়ে আজ যেন কোনো বিধিনিষেধ নেই। যে কেউ হাত বাড়ালেই পাশের কোনো দোকান থেকে কিনতে পারছে। আমরা দেখছি কিন্তু কিছু বলতে পারছি না। ছাত্রছাত্রীদের মাদক থেকে দূরে রাখাটাই মা-বাবার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সন্তানের সঙ্গে মা-বাবার দূরত্ব থাকার কারণে নিঃসঙ্গতার জন্ম হচ্ছে। নিঃসঙ্গতা কাটাতে তারা মাদকের আশ্রয় নিচ্ছে। মাদকের সঙ্গে সামাজিক আইনশৃঙ্খলার বাহিনীর একটি সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। মাদকের টাকা জোগাড় করতে না পেরে মাদকসেবীরা চুরি, ছিনতাই থেকে শুরু করে মারাত্মক সব অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। মাদকসেবীদের সামাজিক অস্থিরতা।

মাদকের সঙ্গে সামাজিক আইনশৃঙ্খলার একটি সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। মাদকের টাকা জোগাড় করতে না পেরে মাদকসেবীরা চুরি, ছিনতাই থেকে শুরু করে মারাত্মক সব অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে ডোপ টেস্ট একটি কার্যকরী উদ্যোগ হতে পারে। যেখানে ব্যক্তি নিজেই মাদক গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকবে। এমনকি কর্মে প্রবেশ করার পরও সে মাদক গ্রহণ করবে না। ডোপ টেস্টের দ্বারা আগামীতে মাদকমুক্ত ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে উঠবে বলে আশা করা যায়।



মন্তব্য করুন