রবিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২১ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

যানজটে ভোগান্তির সমাধান কবে?

সামছুল আলম সাদ্দাম
২৯ অক্টোবর ২০২১ ১২:১৭ |আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২১ ১৭:১৭
সামছুল আলম সাদ্দাম। লেখক ও সাংবাদিক
সামছুল আলম সাদ্দাম। লেখক ও সাংবাদিক

রাজধানীতে যানজটের কারণগুলো চিহ্নিত হলেও সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেই। করোনাকালীন নগরী স্বাভাবিক থাকলেও এখন সেই পুরনো রূপে ফিরেছে। যানজটে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। কয়েকটি পত্রিকায় যানজটের কারণ ও সমাধানের পরামর্শ দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে সমন্বয়ের অভাবে যানজট নিরসনে পরিকল্পনা ও মহাপরিকল্পনা কাজে লাগছে না বলে উল্লেখ করা হয়। এটা ঠিক। এছাড়া ফ্লাইওভার নির্মাণ হলে যানজট কমবে বলে আশা করা হয়েছিল, এটার সুফলও মিলছে না।

ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার জন্য ডিজিটাল সিগন্যাল বসানো হলেও পুলিশ ম্যানুয়ালি হাতের ইশারায় সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণ করছে। ফুটপাত দখল ও পার্কিং ব্যবস্থাপনায় কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। চালকরা লাইন-লেন না মেনেই গাড়ি চালাচ্ছে, যেখানে-সেখানে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করাচ্ছে। কারণগুলো চিহ্নিত। এরপরও প্রতিনিয়ত যানজটের কারণ কী, এ নিয়ে বিস্তর গবেষণা চলছে। যানজট নিরসনে নেওয়া হয়েছে নানা পরিকল্পনা এবং মহাপরিকল্পনা। কিছুই যেন কাজে আসছে না।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) যানজট কমাতে ঢাকার তেজগাঁও, উত্তরা, বনানী ও মহাখালী হয়ে উত্তরার হাউজ বিল্ডিং এলাকা পর্যন্ত ১১টি ইউটার্ন নির্মাণ করা হয়। বলা হয়েছিল, এগুলো চালু হলে যানজট সহনীয় পর্যায়ে আসবে। কিন্তু খুব একটা উন্নতি হয়নি। মেট্রোরেল নির্মাণ প্রকল্পের কারণে মিরপুর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত দীর্ঘ সড়কের এখন বেহাল দশা। একইসঙ্গে প্রায় সারা বছরই সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা তিতাস, ওয়াসা, বিটিআরসি, ডেসা, ডেসকো, সিটি করপোরেশন অপরিকল্পিতভাবে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করে। রাস্তা সংস্কারে মাসের পর মাস লেগে যায়। যানজটের এটিও একটি কারণ।

রোড ট্রান্সপোর্ট অথোরিটির (বিআরটিএ) হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে ঢাকায় ৯ লাখ ১৩ হাজার ৬২২টি নিবন্ধিত মোটরযান রয়েছে। এর মধ্যে বাস ২৩ হাজার ১১৯টি এবং মিনিবাস ১০ হাজার ৭টি। অন্যদিকে প্রাইভেটকার রয়েছে ২ লাখ ১৬ হাজার ৭২২টি। ঢাকা মহানগরীতে বর্তমানে জনসংখ্যা প্রায় পৌনে ২ কোটি। তার মানে, জনসংখ্যার হিসাবে শতকরা এক ভাগেরও কম মানুষের প্রাইভেটকার রয়েছে। কিন্তু সড়ক চলে গেছে প্রাইভেটকারের দখলে। এই গাড়িগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে রাজধানীতে যানজট অর্ধেকে নেমে আসত। এদিকে নজর দিন। যানজট ঢাকাবাসীর জীবনের গতিই শুধু শ্লথ করে দেয়নি, এর কারণে বিপুল পরিমাণ অর্থনেতিক ক্ষতিও হচ্ছে। ক্ষতি হচ্ছে স্বাস্থ্য এবং মানসিক অবস্থারও। কর্মব্যস্ত নগর জীবনের অতি গুরুত্বপূর্ণ সময়ের অর্ধেকটাই কাটাতে হয় পথে। মানুষের সঙ্গে মানুষের সামাজিক মেলামেশাও কমে যাচ্ছে যানজটের কারণে। ঢাকার যানজট প্রতিদিন ৩২ লাখ কর্মঘণ্টা খেয়ে ফেলছে। ফলে শহরের অর্থনীতি থেকে প্রতি বছর কোটি কোটি ডলার নষ্ট হচ্ছে। এ পরিসংখ্যান নিয়ে ভাবুন একবার।

আমরা যানজটের দুর্ভোগ থেকে বেরিয়ে আসতে চাই। সরকারকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এ সমস্যার সমাধান করতে হবে। ফ্লাইওভারে সমাধান হবে না। এক জায়গায় গাড়ি চললেও আরেক জায়গায় গাড়ি আটকে যায়। ফ্লাইওভারের ওপরে-নিচেও জ্যাম হচ্ছে। পাতাল রেল, উড়ালসড়ক নির্মাণসহ যত পরিকল্পনাই নেওয়া হোক না কেন, পরিকল্পনা সঠিক না হলে দীর্ঘমেয়াদি যানজট নিরসন সম্ভব নয়। যানজট নিরসনে জলপথকে বেছে নেওয়া যায়। ঢাকার চারপাশ ঘিরে যে নদী রয়েছে, তা ব্যবহার করা হলে রাস্তার ওপর চাপ কমবে।

 

লেখক : সামছুল আলম সাদ্দাম



মন্তব্য করুন