রবিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২১ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

ক্যামনে ওজন কমাইলাম?

নিজস্ব প্রতিবেদক
৬ নভেম্বর ২০২১ ২২:৩৫ |আপডেট : ৯ নভেম্বর ২০২১ ১৮:৫৯
ফিটনেস নিউট্রিশনিস্ট ও ‘লুজ টু গেইন’ ফেসবুক গ্রুপের ফাউন্ডার সাজেদুর রহমান
ফিটনেস নিউট্রিশনিস্ট ও ‘লুজ টু গেইন’ ফেসবুক গ্রুপের ফাউন্ডার সাজেদুর রহমান

নিজের ওজন কমানোর প্রক্রিয়া সবার সঙ্গে শেয়ার করলেন ফিটনেস নিউট্রিশনিস্ট ও ‘লুজ টু গেইন’ ফেসবুক গ্রুপের ফাউন্ডার সাজেদুর রহমান। এবার তিনি লম্বা সময় নিয়ে পছন্দের খাবার খেয়েও ধীরে ধীরে কি করে ওজন কমিয়ে আনলেন তা এক পোস্টের মাধ্যামে জানালেন।

সাজেদুর রহমানের ফেসবুক পোস্টটি ঢাকা ওয়েভের পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো-

‘সবাই এটাই জানতে চায়, এর বাইরের বেশি কিছু জানার আগ্রহ অনেকের নেই। যাইহোক আমার আজকের গল্প বলি। ছোট সামারি দিয়ে দেই শুরুর ছবিটাতে ওজন ছিল ৮৭.৬ আর নীল টি শার্টের টা তে ৭৯.৩ কেজি। এই ছবিতে ডিফারেন্স ৮.৩ কেজি। তবে শুরুর অনেকদিন পর ছবি নেয়া। শুরুতে ছিল ৮৮.৮ কেজি সে হিসাবে ৯.৫ কেজি কমেছে। মোট সময় লেগেছে ৬ মাস! সময়টা অনেক বেশি অনেকের কাছে। আমার এবার এপ্রোচ ছিল স্লো কমানোই।

এবার একটু পুরো প্রসেসটা নিয়ে একটু শেয়ার করি। ৬ মাস আগে James Clear এর একটা আর্টিকেল পড়ি ২ মিনিট রুলস পরে সে লেখকের বই Atomic Habits পড়ি। হ্যাবিট রিলেটেড অনেক বই আর্টিকেল পড়েছি তবে আমার কাছে জেমস ক্লিয়ারের লেখা প্লাস টেকনিক গুলো প্র্যাক্টিক্যাল লেগেছে। কম্পাউন্ডিং বা ছোট ছোট চেজ্ঞ কিভাবে লং টার্মে হেল্প করে তা নিয়ে লেখা।

ওজন কমানো বা ফিজিক চেজ্ঞের এর টেকনিক্যাল পার্ট হল প্ল্যান বানানো যা খুবই ছোট একটা পার্ট। এখন এটাকে এডপ্ট করা বা এপ্লিকেশন টাই বড় ব্যাপার। সাইকোলজিক্যাল ফ্যাক্টর টা অনেক অনেক জরুরি।

শুরুটা করেছি ২ মিনিট রুলস দিয়ে। যেখানে আমি এক্সারাসাইজের ক্ষেত্রে ফিক্সড মাইন্ডসেট থেকে ফ্লেক্সিবল মাইন্ডসেটে এসেছি। রোজ ৩০ মিনিট বা ৬০ মিনিট এক্সারসাইজ করার থেকে প্রাধান্য দিয়েছি রোজ এক্সারসাইজ করা কে। লং টার্মে প্রতিদিন এক্সরসাইজ করার অভ্যাস টা আমাকে বেশি হেল্প করবে।

এরপরেরটা ছিল ডেইলি লগ করা। রোজ ঘুম থেকে উঠে আমার ওজন কত চেক করা, সারাদিন পানি কতটা খাচ্ছি, কোন সময়ে কি খাবার কি পরিমানে খাচ্ছি সেটা লেখা। ফুড লগ করার গোল ছিল প্রোটিন ফ্যাট কার্ব সবজি ঠিক রেশিওতে খাচ্ছি কিনা সেটা নিশ্চিত করা। এটলিস্ট মিনিমাম এমাউন্ট হিট করছি কিনা সেটার জন্য। আমি একুরেট ক্যালরি কাউন্ট করিনাই তবে একটা রাফ আইডিয়া রেখেছি দিনশেষে কতটা খাচ্ছি।

কোন এপে ফুড লগ করিনাই তার কারণ ছিল সাথে সাথে জানা কত ক্যালরি খাচ্ছি বেশি খেয়ে ফেলছি এসব নোটিফিকেশন থেকে দূরে থাকা। আমি ফুড লগ থেকে কোনো এংসাইটি নিতে চাইনি তাই খাতা কলমে নোট করেছি। প্রথম দিকে হেলদি ফুড সোর্স সিলেক্ট করাতে প্রাধান্য দিয়েছি পরে এভারেজে একটা ক্যালরি লিমিটের মধ্যে মেইন্টেন করার চেষ্টা করেছি।

ওজন ফ্ল্যাকচুয়েট অনেক করেছে আমার, সবচে ফার্স্ট্রেটিং পার্ট ছিল এটাই। সময়ের সাথে সাথে এটার সাথে ডিল করা শিখেছি। যেমন গত ১০ দিন আগে ওজন ছিল ৭৯.৬ মাঝে বেড়ে ৮০.৬ হয়েছে আবার কমে ৭৯.৩ হয়েছে। যখন এমন হয়েছে আমি সে ১০ দিনের পেজ উল্টায়ে দেখি যে কি খেয়েছি কি করেছি ১০ দিনে। তখন আমি একটা স্যাটিসফাইং অ্যান্সার পেয়েছি। যেদিন বাইরে ডিনার করেছি পরের দিন বেশি এসেছে। আবার কোনদিন ১০০% মেইন্টেন করলে কম এসেছে। ডায়েটে এই ফ্ল্যাকচুয়েশনগুলোর স্যাটিসফাইং অ্যান্সার ফুড লগ ছাড়া পাবার উপায় নেই।

আমি পুরো ৬ মাসে একটা দিন ও এক্সরসাইজ মিস করি নাই, যতই ব্যস্ত থাকি বা যাই করি। এটার পাশাপাশি আমি কোনো মজার বা পছন্দের খাবারও স্যাক্রিফাইস করি নাই। যখন যা ইচ্ছা হয়েছে খেয়েছি তবে লিমিট করে। খাবারের ব্যাপারে আমি লিমিট করেছি কিন্তু রেস্ট্রিক্ট করি নাই। ১ প্লেট বিরিয়ানি আমার ওজন যেমন বাড়াতে পারবে না তেমনি ১ প্লেট সালাদ কমাতে পারবে না। এভাবে আমার ফুড এর সাথে রিলেশন অনেক বেটার হয়েছে।

লিখতে গেলে আরও অনেক বড় করা যায়, তবে শেষ করি কিছু কথা বলে। ওজন কমানো সহজ ধরে রাখা কঠিন। পার্মানেন্ট সল্যুশন হলো অভ্যাস পরিবর্তন করা। অভ্যাস পরিবর্তন ২-৩ মাসের ব্যাপার না, বছরের পর বছর সময় লাগে অভ্যাস পরিবর্তন করতে।

এটমিক হ্যাবিট বইটা আমি হাইলি রিকমেন্ড করি পড়তে। কোথায় পাব এইটা কেউ জিজ্ঞেস করবেন না। বইতে একটা জায়গাতে লেখক এক স্পোর্টস কোচ কে জিজ্ঞেস করে সফল এথেলেট আর অসফল এর মধ্য ডিফারেন্স টা কোথায়? কোচ উত্তর দিয়েছিল বোরনেস এর সাথে ডিল করা। খেলতে গিয়ে রোজ একই জিনিস করতে গিয়ে বোরড লাগে সবারই কিন্তু যারা এটা ইগনোর করে রিপিট করতে পারে তারাই সফল আর যারা পারে না তারা অসফল।

এটার ডায়েটে এক্সাম্পল হলো রোজ একই খাবার খেতে খেতে বিরক্তি আসার পরে বোরনেস কাটাতে অন্য খাবার খাওয়া তারপর ওজন বেড়ে যায় তারপর ডায়েট কাজ করছে না অপবাদ দিয়ে অন্য ডায়েট শুরু করা। যারা একই জিনিস মাসের পর মাস কন্টিনিউ করে গেছে তারাই বেটার রেজাল্ট পেয়েছে যারা করেনি, পায়নি। ডিসিপ্লিন মানেই বোরিং আর রিপিটেটিভ। এটার সাথে ডিল করতে না পারলে কখনোই সফলতা আসবে না। ডায়েটকে ল্যাংগুয়েজ শেখার সাথে তুলনা যদি করি একজন ১২ মাসে ১২টা ল্যাংগুয়েজ প্র্যাকটিস করছে আরেকজন ১ টা করছে, সহজে বলা যায় যে ১টা করেছে সে বেটার করবে আর যে ১২টা করেছে সে হয়তো ঠিকমত এতটা কনভার্শেসনই কমপ্লিট করতে পারবেনা। হেলদি ইটিং শেখাটা অনেকটা এমনই ২-৪ মাসে কিছু হয় না বছরের পর বছর সময় লাগে হেলদি ইটিং প্যাটার্ন তৈরি করতে।’



মন্তব্য করুন