শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ১৫ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

বসুন্ধরার এমডিকে হত্যাচেষ্টা : অভিযুক্ত সাদ তিন দিনের রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক
৭ নভেম্বর ২০২১ ২১:১৬ |আপডেট : ৮ নভেম্বর ২০২১ ১৩:২৩
বসুন্ধরার এমডিকে হত্যা চেষ্টাকারী সাইফুল ইসলাম সাদ
বসুন্ধরার এমডিকে হত্যা চেষ্টাকারী সাইফুল ইসলাম সাদ

বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র লিমিটেডের চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরকে হত্যা চেষ্টাকারী সাইফুল ইসলাম সাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

রোববার (৭ নভেম্বর) ঢাকা মহানগর হাকিম মোর্শেদ আল মামুন ভুঁইয়ার আদালত শুনানি শেষে এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে আসামি সাদকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ভাটারা থানার উপ-পরিদর্শক হাসান মাসুদ। এ সময় ঢাকা মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আব্দুল্লাহ আবু রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। 

শুনানিতে তিনি বলেন, আসামি সাদ বসুন্ধরা এমডিকে হত্যার চেষ্টা করেছেন। তাই এ হত্যাচেষ্টার পেছনে কাদের ইন্ধন রয়েছে, কারা জড়িত সেটা খুজে বের করতে বিষয়টি তদন্তের জন্য আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা একান্ত প্রয়োজন। শুনানি শেষে আদালত আসামি সাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) দিবাগত রাত ১টার দিকে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার সাউতুল কোরআন মাদরাসা ও এতিমখানা থেকে সাইফুল ইসলাম সাদ (২৩) নামের এক যুবককে আটক করে পুলিশ। আটক সাদের বাড়ি চট্টগ্রামের পটিয়ায়। বসুন্ধরার এমডিকে হত্যার পরিকল্পনায় যুক্ত সন্দেহে তাকে আটক করা হয়। শুক্রবার (৫ নভেম্বর) তাকে ৫৪ ধারায় আদালতে সোপর্দ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাদ জানিয়েছিলেন, শুক্রবার (৫ নভেম্বর) জুমার নামাজের সময় সায়েম সোবহান আনভীরের ওপর হামলার প্রস্তুতি ছিল তার। এর আগে তাকে খাবারে বিষ মিশিয়ে এবং ছুরিকাঘাতে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। হুইপ সামশুল হক ও তার ছেলে নাজমুল করিম ওরফে শারুন চৌধুরীর পরিকল্পনা অনুযায়ী দৈনিক মজুরিভিত্তিক শ্রমিক হিসেবে বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি হাউসে কাজ নিয়েছিলেন সাদ। পাশাপাশি সাউতুল কোরআন মাদরাসা ও এতিমখানায় ভর্তি হয়েছিলেন। এই মাদরাসার শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন কোরআন খতমের উদ্দেশ্যে এমডি হাউসে যান।

সাউতুল কোরআন মাদরাসার অধ্যক্ষ মুফতি মিসবাহ উদ্দিন সগির জানান, কিছুদিন ধরে সাদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হচ্ছিল। ফোনে কথা বলার সময় তাঁর মুখে হুইপ ও শারুন শব্দ দুটি শুনতে পেয়ে তিনি বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার নিরাপত্তাকর্মীদের বিষয়টি অবহিত করেন।

বসুন্ধরা গ্রুপের জনসংযোগ বিভাগের প্রধান মেজর (অব.) শেখ মিজানুর রহমান জানান, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে হুইপপুত্র বসুন্ধরা গ্রুপের এমডিকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। এর আগেও কয়েক দফা এ ধরনের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছিল চক্রটি। এ ঘটনায় মিজানুর রহমান ভাটারা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। তাতে সাদ ছাড়াও হত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে হুইপ সামশুল হক চৌধুরী ও তাঁর ছেলে শারুন চৌধুরীকে আসামি করার আবেদন করা হয়েছে।

এদিকে, বসুন্ধরা গ্রুপের এমডিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় দেশজুড়ে দ্বিতীয় দিনের মতো রোববারও বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। রাজশাহী, ময়মনসিংহ, সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, পটুয়াখালীয় ও সুনামগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে। এসব কর্মসূচিতে বসুন্ধরার এমডিকে হত্যাচেষ্টার ইন্ধনদাতাদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়।



মন্তব্য করুন