শনিবার, ২৪ জুলাই ২০২১ | ৯ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

বাঁশের ভেলায় ভাসিয়ে লাশ নেওয়া হলো কবরস্থানে!

মোহাম্মদ রিদুয়ান হাফিজ, চকরিয়া
২১ জুলাই ২০২১ ২৩:১৮ | আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২১ ১০:১৪
বাঁশের ভেলায় ভাসিয়ে এক বৃদ্ধার লাশ নেওয়া হলো কবরস্থানে
বাঁশের ভেলায় ভাসিয়ে এক বৃদ্ধার লাশ নেওয়া হলো কবরস্থানে

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার উপকূলীয় উজানটিয়া ইউনিয়নের পেকুয়ারচর গ্রামে সড়ক না থাকায় চিংড়ি ঘেরের পানিতে বাঁশের ভেলায় ভাসিয়ে এক বৃদ্ধার লাশ নেওয়া হলো কবরস্থানে!

বুধবার (২১ জুলাই) বিকেলে লাশ ভাসিয়ে নেওয়ার ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হলে তুমুল সমালোচনা শুরু হয়। জানা গেছে, ২০ জুলাই রাতে ওই গ্রামের গোলাম শরীফের স্ত্রী দিলোয়ারা বেগম (৭০) বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান।

২১ জুলাই ঈদুল আজহার দিন সকাল ৭টার দিকে গোলাম শরীফের বাড়ি থেকে একটি চিংড়ি ঘেরের পানিতে বাঁশের ভেলায় ভাসিয়ে মরদেহ দাফনের জন্য ওই ইউনিয়নের নতুন ঘোনা গ্রামের আজিজিয়া জামে মসজিদের মাঠে নেওয়া হয়। ওই দৃশ্যের ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপরে ওই ইউনিয়নের স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়।

বৃদ্ধা দিলোয়ারা বেগমের কয়েকজন আত্মীয় স্বজন জানান, মৃতদেহটি কবরস্থান পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার জন্য যে সড়কটি রয়েছে তা খুবই খারাপ। মৃতদেহ বহনকারী খাটিয়া নিয়ে ওই সড়ক দিয়ে যাওয়া বড়ই দুস্কর। তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই একটি বাঁশের ভেলায় মৃতদেহ বহনকারী খাটিয়ে রেখে ভাসিয়ে কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, শুধু লাশ দাফন নয়, গ্রামের লোকজনের যাতায়াতেও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। উজানটিয়া ইউনিনের পেকুয়ারচর গ্রামের ফোরকানের দোকান থেকে আজিজিয়া জামে মসজিদ পর্যন্ত আধা কিলোমিটার সড়ক বিগত ২০ বছরেও সংস্কার করা হয়নি। তবে ২০ বছর ধরে সংস্কার হয়নি স্থানীয়দের এমন অভিযোগ মানতে নারাজ স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. শাহা জামাল। এ ইউপি সদস্য বলেন, ২০ বছর ধরে সড়ক সংস্কার হয়নি এ অভিযোগ সঠিক নয়। 

উজানটিয়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড়ের ইউপি সদস্য মো. শাহ জামাল বৃদ্ধা নারীর লাশ চিংড়ি ঘেরের পানিতে বাঁশের ভেলায় ভাসিয়ে কবরস্থানে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, তার ওয়ার্ডের ফোরকানের দোকান থেকে আজিজিয়া জামে মসজিদ পর্যন্ত ১০/১২ চেইন সড়কের মধ্যে প্রায় ৩/৪ চেইন সড়কের অবস্থা খারাপ। তাই ওই লাশ পানিতে ভাসিয়ে কবরস্থানে নিয়েছে মৃতের স্বজনরা।

তিনি বলেন, সড়কটি সংস্কার করলেও এক বছরেও ঠিকে না। দুই পাশের চিংড়ি ঘেরের কারণে প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে সড়ক ভেঙে যায়। তিনি এ জন্য সড়কের দুই পাশের চিংড়ি ঘেরের মালিকদের দায়ী করেছেন।

শাহ জামাল আরও বলেন, ওই সড়কটি সংস্কারের জন্য ৪০ দিনের কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় প্রকল্পভুক্ত করা হয়েছে। 

উজানটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, তার ইউনিয়নে সড়ক যোগাযোগ মোটামোটি ভালো।

ভেলায় ভাসিয়ে লাশ কবরস্থানে নেওয়ার প্রসঙ্গে ইউপি সদস্য মো. শাহ জামাল বলেন, সড়কটি সংস্কার করার জন্য দুই পাশের জমির মালিকরা মাটি দিতে চায় না। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে অপরিকল্পিত বাড়ি ঘর ও চিংড়িঘেরের কারণে সড়কটি পানিতে তলিয়ে যায়। তিনি এ জন্য চিংড়িঘেরের মালিকদের দায়ী করেছেন।



মন্তব্য করুন