শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ৯ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

জয়ের সফলতা অনেকের ঈর্ষার কারণ

সামছুল আলম সাদ্দাম
৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২২:২৬ | আপডেট : ৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৩:১৫
ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়
ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিজ হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আল নাহিয়ান খান জয় এবং লেখক ভট্টাচার্য। সংগঠনটির সর্বোচ্চ অভিভাবক শেখ হাসিনা বিশেষ পরিস্থিতিতে জয়-লেখকের হাতে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব তুলে দিয়েছিলেন। এরপর থেকে নানা সময় বিতর্ক উঠলেও জয়-লেখকের সেরা সাংগঠনিক কাজ ছিল ছাত্রলীগ থেকে বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে যোগ্যদের দিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করা। এছাড়া বঙ্গবন্ধু কন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনাকালীন সময়ে ছাত্রলীগের সকল নেতাকর্মীদের মানবিক রাজনীতির ভূঁয়সী প্রশংসা করেছেন।

এরপরও ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়কে কেন্দ্র করে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগের একটি অংশ নোংরা রাজনীতি শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। গতকাল সোমবার যে সমাবেশ থেকে নিজ উপজেলায় ৭ দিনের মধ্যে একটি ঘটনাকে অন্যখাতে প্রবাহিত করে জয়কে অবাঞ্ছিত ঘোষণার ডাক দিয়েছে, সেটির নেপথ্যে রয়েছে স্থানীয় রাজনীতির নোংরামি আর গ্রুপিং।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ছাত্রলীগের সভাপতি হিসাবে আল নাহিয়ান খান জয় গত দেড় বছরে মাত্র ৩ বার নিজ উপজেলায় গিয়েছেন। তিনি স্থানীয় রাজনীতির সাথে এখনই সম্পৃক্ত নন। কিন্তু বাবুগঞ্জ আওয়ামী লীগের একটি অংশ জয়কে ভবিষ্যতের প্রতিদ্বন্দ্বী ভেবে এখন থেকেই তাকে চাপে রাখার অপকৌশল হিসাবে নিজ উপজেলায় অবাঞ্ছিত ঘোষণার হুমকি দিয়ে রেখেছে।

বাবুগঞ্জ থেকে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে,  দীর্ঘ ১৬ বছর পর গ্রামে ফেরা এক বৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধাকে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আটক করে খুঁটির সাথে বেঁধে নির্মম নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আব্দুল মজিদ সরদার (৭২) নামের ওই বৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করা হয়েছে।

একই সময় ওই মুক্তিযোদ্ধার সাথে থাকা আজাহার ওরফে মনু (৬৫) নামের আরেক বৃদ্ধকে হাঁতুড়ি পেটা করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরনগর (আগরপুর) ইউনিয়নের ঠাকুরমল্লিক গ্রামের কবিরাজ বাড়ি সংলগ্ন এলাকায়। খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ ক্যাম্পের একদল সদস্য গুরুতর অবস্থায় মুক্তিযোদ্ধাসহ আহত দুইজনকে উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।

অপরদিকে মুক্তিযোদ্ধাসহ দুইজনকে অমানুষিক নির্যাতনের ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এমনকি ওই কর্মসূচিতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়কে তার নিজ উপজেলা বাবুগঞ্জে অবাঞ্ছিত করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে শেবাচিমে চিকিৎসাধীন বৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মজিদ সরদার বলেন, ওই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সরদার তারেকুল ইসলাম তারেক ও তার সহযোগীরা প্রকাশ্যে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করেছে।

তিনি আরও জানান, দীর্ঘ ১৬ বছর পর গত ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাতটার দিকে তিনি (মজিদ সরদার) বাহ্মদিয়া গ্রামের আজাহার ওরফে মনুকে সাথে নিয়ে তার পিত্রালয়ে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে স্থানীয় কবিরাজ বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছলে তারেকের সহযোগীরা অস্ত্রের মুখে তাদের জিম্মি করে প্রকাশ্যে হামলা চালায়। একপর্যায়ে তাদের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়িতে নিয়ে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্মম নির্যাতন করা হয়।

তিনি আরও জানান, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান তারেক নিজে তার (মুক্তিযোদ্ধা মজিদ) বাম হাতের আঙুল হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে থেঁতলে ও কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে।

মুক্তিযোদ্ধা মজিদ সরদার ও তার সাথে থাকা আজাহার ওরফে মনুকে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান তারেকুল ইসলাম তারেক বলেন, হামলা বা নির্যাতনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। উল্টো অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, উল্লেখিত দুই ব্যক্তিসহ ৭/৮ জনের একটি সন্ত্রাসীদল আমাকে হত্যার উদ্দেশে এলাকায় অবস্থান নিয়েছিল। বিষয়টি এলাকাবাসী জানতে পেরে সন্ত্রাসীদের ধাওয়া করে।

এসময় অন্যান্যরা পালিয়ে গেলেও মজিদ সরদার ও মনুকে এলাকার লোকজনে আটক করে গণধোলাই দিয়েছে। এ ঘটনায় সোমবার দিবাগত রাতে তিনি (তারেক) নিজে বাদী হয়ে মজিদ ও মনুসহ বেশ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

বাবুগঞ্জ থানার ওসি মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘হামলার শিকার বৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মজিদ সরদার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সরদার তারেকুল ইসলাম তারেকের পিতার হত্যা মামলার আসামি ছিলেন। মজিদ সরদার ও সাবেক চেয়ারম্যান তারেক একই বাড়ির বাসিন্দা হলেও দীর্ঘদিন পর মজিদ সরদার গ্রামে আসায় তারেক অনুসারীদের সন্দেহ হয়। যে কারণে তারেকের অনুসারীরা মজিদ সরদারসহ তার সাথে থাকা মনুকে মারধর করেছে।’



মন্তব্য করুন