শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ১০ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

দিনাজপুর টিটিসি’র অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

মো. আব্দুস সাওার, দিনাজপুর
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২২:০২ | আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২৩:০৫
দিনাজপুর টিটিসির অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো. আইনুল হক
দিনাজপুর টিটিসির অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো. আইনুল হক

দিনাজপুর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো. আইনুল হকের বিরুদ্ধে ভর্তি ফরমের টাকা আত্মসাৎ, সম্মানীর নামে ঘুষ আদায়, সরকারি বিধি লঙ্ঘন ও সীমাহীন অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

যুবক-যুবতীদের কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে চাকরির সুযোগ করে দেওয়াই মূল লক্ষ্য কারিগরি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার টিটিসির। কিন্তু দিনাজপুর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বিধি লঙ্ঘন ও দুর্নীতির মাধ্যমে আখের গোছানোর অভিযোগ অধ্যক্ষসহ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এক অদৃশ্য খুঁটির জোরে অধ্যক্ষ বহাল তবিয়তে অনিয়ম ও দুর্নীতি অব্যাহত রেখেছেন।

অভিযোগে জানা যায়, দিনাজপুর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র  গত ২৩ জুলাই ২০২০ তারিখ অধ্যক্ষ হিসেবে প্রকৌশলী মো. আইনুল হক যোগদানের পরপরই প্রতিষ্ঠানের বেসরকারি খাতের ব্যাংক হিসাব হতে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ২টি চেকের মাধ্যমে নগদ ৩ লাখ টাকা উত্তোলন করেন এবং প্রতিষ্ঠানের সরকারি খাতের ব্যাংক হিসাব হতে ছাত্র-ছাত্রীর বৃত্তি প্রদানের জন্য রক্ষিত অর্থ হতে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ৬ লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন।

পরবর্তীতে সরকারি খাতের ব্যাংক হিসাবে কয়েকবারে ৬ লাখ টাকা নগদ জমা প্রদান করেন, যাহা নিয়ম বর্হিভূত। এ বিষয় হিসাবরক্ষক প্রতিবাদ করায় চীফ ইন্সট্রাক্টর গার্মেন্টস শাহজাহান মজুমদার বলেন, অধ্যক্ষ নিজ প্রয়োজনে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা উঠাতেই পারেন। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের বেসরকারি খাতে আয়কৃত সকল অর্থ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জমা হওয়ার বিধান থাকলেও এক্ষেত্রে তা পালন করা হয়নি। উল্টো তিনি বেসরকারি খাত থেকে আয়ের অর্থ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা না করে নিজের কাছে রাখেন। সেখান থেকে তিনি নিজের খেয়াল-খুশিমত টাকা খরচ করেছেন। অধ্যক্ষ আইনুল হক অসংখ্য ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে বিল উত্তোলন করেছেন। বিভিন্ন রকমের ক্রয় কার্যক্রমের মাধ্যমে ভুয়া বিল ভাউচার বাজার দরের চেয়ে অধিক মূল্য দেখিয়ে প্রায় ৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। 

ভবন মেরামত ও সংস্কার কাজের ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ হতে পূর্ববর্তী প্রস্তাবনাকে উপেক্ষা করে (বঙ্গবন্ধু মুর‌্যাল-বঙ্গবন্ধু কর্ণারের আধুনিকায়নের বরাদ্দকৃত অর্থ অধ্যক্ষ নিজ খেয়াল-খুশিমত ২টি প্যাকেজের মাধ্যমে ৫ লাখ ৯১ হাজার ৮৮১ টাকায় অপ্রয়োজনীয় একটি টয়লেট এবং ২ লাখ ৬৫ হাজার ৩৭৩ টাকায় বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশনের সংস্কার কাজ দেখিয়ে অর্থ খরচ করেছেন।

মেসার্স ঈসা কনস্ট্রাকশন, উত্তর বালুবাড়ী, টিকিয়াপাড়া উক্ত টয়লেট নির্মাণের জন্য ২ লাখ ৬৩ হাজার  ৩৭৩ টাকার কোটেশন প্রদান করেন। কিন্তু কী কারণে টয়লেটের কাজ সম্পন্ন করার জন্য মেসার্স তুরাগ এটারপ্রাইজ মাতাসাগরকে ৫ লাখ ৯১ হাজার ৮৬১ টাকায় কাজটি পাইয়ে দেন। ২০২০-২০২১ অর্থ বছর অন্যান্য ভবন স্হাপনা ও মেরামত খাতে প্রস্তাবনায় ছিল একাডেমিক ভবনের সামনে বঙ্গবন্ধু মুর‌্যাল স্থাপন এবং বঙ্গবন্ধু কর্ণারের আধুনিকায়নসহ বেশকিছু কাজ। প্রস্তাবনায় টয়লেট বা সাব-স্টেশন সংস্কারের কোনো চাহিদা ছিল না। বাজেট বরাদ্দ আসার পর অধ্যক্ষ নিজের খেয়াল-খুশিমত নতুন পরিকল্পনায় কাজ করেছেন। তদ্রূপভাবে সেই প্রকল্পের বিল ভাউচার অধিকতর কম চাহিদা সম্পূর্ণ কোর্স (মেশিন, প্লাম্বিং) এর জন্য তুলনামূলকভাব অধিক প্রশিক্ষণ কাঁচামাল ক্রয় করা হয়েছে। পক্ষান্তরে অধিক চাহিদা সম্পন্ন কোর্সের জন্য তুলনামূলক কম টাকার প্রশিক্ষণ কাঁচামাল ক্রয় করা হয়েছে।

অপরদিকে টিটিসি’র চিফ ইন্সট্রাক্টর গার্মেন্টস শাহজাহান মজুমদার ও লাইব্রেরিয়ান সেলিনা পারভীন তারা দু’জনে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দেয়ার জন্য ৭দিন/১৫ দিন পরে টিটিসি'ত এসে এক দিনে সব স্বাক্ষর করে চলে যান। এছাড়াও দিনাজপুর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ওয়ল্ডিং ট্রেড চালু না থাকলে ও চীফ ইন্সট্রাক্টর রাশেদুল ইসলাম ওই পদে কর্মরত থেকে অধ্যক্ষকে এসব অপকর্মের সহায়তা করে যাচ্ছে।

সম্প্রতি  ২ সেপ্টেম্বর ২০২১ সালে অনুষ্ঠিত ভর্তি পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়মের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের নির্বাচন করা হয়েছে। উল্লখ্য যে নির্বাচিত প্রশিক্ষণার্থীদের বেশিরভাগই পলিটেকনিক ইনস্টিটিটিউটে অধ্যায়নরত। এক্ষেত্রে অধ্যক্ষের কাছে ভর্তি পরীক্ষার ট্রেড ভিত্তিক সিলেকশনের তালিকা চাওয়া হলে তিনি তৎক্ষণাৎ তা দেখাতে পারেননি।

গত ৮ সেপ্টেম্বর’২১ “নিরাপদ অভিবাসন ও দক্ষতা উন্নয়ন” শীর্ষক সেমিনারে সরকারি বরাদ্দ ৩০ হাজার টাকা হলে ও অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো. আইনুল হক প্রায় ২ লাখ টাকা ব্যয়ে জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেছেন। অবশিষ্ট টাকার উৎস কোথায় এবং অতিরিক্ত টাকা খরচের উদ্দেশ্য কী?

এ বিষয় অনেকে মত পোষণ করে বলেন, অধ্যক্ষ নিজের দুর্নীতি ও কুকীর্তি আড়াল করার জন্য এত অর্থ ব্যয়ে জাঁকজমকভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। এ বিষয় ভুক্তভোগীরা প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি ও অর্জিত সুনাম রক্ষার্থে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তথা প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 



মন্তব্য করুন

সর্বশেষ খবর
এই বিভাগের আরও খবর