মঙ্গলবার, ৫ জুলাই ২০২২ | ২১ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

তিন বছরে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের আয় ৩০০ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৬ মে ২০২২ ১৮:০০ |আপডেট : ১৭ মে ২০২২ ০৯:৩৮
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট। পুরোনো ছবি
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট। পুরোনো ছবি

কোম্পানি জানায়, বিএসসিএলের এখন পর্যন্ত আয় ৩০০ কোটি টাকা অতিক্রম করেছে। বর্তমানে কোম্পানির মাসিক আয় প্রায় ১০ কোটি টাকা, যার প্রায় পুরোটাই দেশীয় বাজার থেকে হচ্ছে। ক্রমান্বয়ে এই আয় আরও বৃদ্ধি পাবে বলেও জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

উৎক্ষেপণের চার বছর অতিক্রম করেছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। উৎক্ষেপণের পর তিন বছরে দেশের প্রথম স্যাটেলাইট থেকে ৩০০ কোটি টাকার বেশি আয় হয়েছে। এখন দেশের বাজার থেকেই প্রতি মাসে আয় ১০ কোটি টাকার বেশি হচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড।

দেশের কয়েকটি গণমাধ্যমে ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট: তিন বছর আয় করতে পারেনি, খরচ উঠবে কবে শিরোনামে যে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে সেটি সঠিক তথ্যভিত্তিক নয় বলেও অভিযোগ তুলেছে বিএসসিএল।

বিএসসিএল এক বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার দাবি করেছে, ‘প্রতিবেদনটিতে কোম্পানির প্রকৃত ব্যবসায়িক চিত্র প্রতিফলিত হয়নি, ফলে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।

২০১৮ সালের ১২ মে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ করা হয়। ফ্রান্সের প্রতিষ্ঠান থ্যালাস অ্যালেনিয়া স্পেস স্যাটেলাইটটি তৈরি ও উৎক্ষেপণের দায়িত্বে ছিল। সব মিলিয়ে স্যাটেলাইটটি মহাকাশে পাঠাতে বাংলাদেশের খরচ হয় ২ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা।

বিজ্ঞপ্তিতে বিএসসিএল জানায়, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট তিন বছরে কোনো আয় করতে পারেনি কথাটি সঠিক নয়, বরং তিন বছর ধরেই আয়ের ধারায় রয়েছে কোম্পানি।

কোম্পানি জানায়, বিএসসিএলের এখন পর্যন্ত আয় ৩০০ কোটি টাকা অতিক্রম করেছে। বর্তমানে কোম্পানির মাসিক আয় প্রায় ১০ কোটি টাকা, যার প্রায় পুরোটাই দেশীয় বাজার থেকে হচ্ছে। ক্রমান্বয়ে এই আয় আরও বৃদ্ধি পাবে বলেও জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

অবশ্য বিএসসিএল কোম্পানি গঠনের আগে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ থেকে সাত বছরে এর খরচ উঠে আসবে। সাধারণত এমন স্যাটেলাইটের আয়ু ধরা হয় ১৫ বছর। তবে এখনকার আয়ের ধারা অব্যাহত থাকলে তা সম্ভব হবে না।

বিএসসিএলের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে, রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা, বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার এবং দেশের সব বেসরকারি টিভি চ্যানেলসহ ৩৯টি টিভি চ্যানেল এবং দেশের একমাত্র ডিটিএইচ অপারেটর আকাশ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সম্প্রচার করছে।

দেশের দুটি স্বনামধন্য ব্যাংক এরই মধ্যে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ ব্যবহার করে তাদের এটিএম সেবা দেয়া শুরু করেছে। আরও অনেকগুলো সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা চলমান আছে, যারা অদূর ভবিষ্যতে চুক্তি স্বাক্ষর করে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর সেবার আওতায় আসবে বলে জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ (আর্মড ফোর্সেস ডিভিশন) বিএসসিএলের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে। এর আওতায় বাংলাদেশে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী এবং ডিজিএফআই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর সেবার আওতায় আসবে। বাহিনীগুলো সম্মিলিতভাবে তিনটি ট্রান্সপন্ডারের মাধ্যমে সেবা নেবে।

বাংলাদেশ সরকারের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতি পূরণের অংশ হিসেবে বিএসসিএল ৩১টি দুর্গম ও প্রত্যন্ত দ্বীপাঞ্চলের ১১২টি স্থানে টেলিযোগাযোগ সেবা দিচ্ছে। অদূর ভবিষ্যতে আরও বেশিসংখ্যক দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকার সুবিধাবঞ্চিত জনগণকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর সেবার আওতায় আনা হবে বলে জানানো হয়।

জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের সেবা নেয়ার ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছে এবং অনেকের সঙ্গেই আলোচনা চলছে। পর্যায়ক্রমে এই ব্যবসায়িক আলোচনা সফল হলে দেশীয় বাজারেই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর বৃহৎ গ্রাহক তৈরি হবে এবং এর থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয়ও সম্ভব হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটটির সেবা নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল নেপাল ও ফিলিপাইন। অবশ্য বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে সে উদ্যোগে অনেকটাই ভাটা পড়ে।

চাহিদার তুলনায় বৈশ্বিক বাজারে স্যাটেলাইট ব্যান্ডউইথের সরবরাহ বেশি থাকায় এবং করোনার কারণে বিদেশের বাজারে বিপণন কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এখন সে উদ্যোগ পুরোদমে শুরু হয়েছে বলে জানায় বিএসসিএল।

এখন দেশের বাজারে এর বিপণন বাড়াতেও কাজ করা হচ্ছে বলে জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

সম্প্রতি বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ ব্যবহার করে যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলের সম্প্রচার শুরুর মাধ্যমে বিএসসিএল বিদেশের বাজারেও ব্যবসায়িক যাত্রা শুরু করেছে। সামনে এটি আরও বাড়বে বলে প্রত্যাশা কোম্পানির।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সম্পদ, জাতির উন্নয়ন ও গর্বের প্রতীক। এর ওপরে জাতির অগাধ বিশ্বাস রয়েছে। তাই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ নিয়ে যেকোনো নেতিবাচক সংবাদ জনগণকে বিভ্রান্ত ও মর্মাহত করে।

সরকারি মালিকানাধীন হলেও বিএসসিএল একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং প্রচলিত নিয়মকানুন মেনেই এটিকে সামনের দিকে এগোতে হবে। এটি বিবেচনায় রেখে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ বা বিএসসিএলের অর্জনগুলোকে ইতিবাচকভাবে জনসমক্ষে তুলে ধরার জন্য সংবাদমাধ্যমগুলোকে অনুরোধ জানিয়েছে স্যাটেলাইট কর্তৃপক্ষ।



মন্তব্য করুন