মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২২ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

রাণীনগর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিলের জাবেদায় অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ

রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি
২৪ নভেম্বর ২০২২ ১৫:৫৫ |আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২২ ১৭:৩৭
সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, রাণীনগর, নওগাঁ
সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, রাণীনগর, নওগাঁ

নওগাঁর রাণীনগর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে দলিলের জাবেদা (নকল) কপি তুলতে গেলে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নির্ধারিত রেটের বাইরে সমিতির নাম ভাঙিয়ে প্রতি জাবেদার কপিতে প্রায় ১ হাজার থেকে ১১শ’ পর্যন্ত অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে নকলনবিশ সমিতির সদস্যরা।

প্রতিনিয়তই জাবেদা কপি তুলতে আসা ব্যক্তিদের দিতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। এমনকি প্রতি মাসে জাবেদা কপি নিতে আসা গ্রহীতাদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে অবৈধ নামধারী নকলনবিশের এই সমিতি। 

অনুসন্ধানে জানা যায়, রাণীনগর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে দলিলের জাবেদা (নকল) কপি নিতে সরকারিভাবে ১০ পাতার বাংলা জাবেদা কপিতে সরকারি ফিসহ অন্যান্য খবর বাবদ ৬৪০ টাকা রেট নির্ধারিত করে দেওয়া আছে। এরমধ্যে কোন গ্রহীতা জরুরীভাবে জাবেদা কপি নিতে চাইলে তাকে ১৫০ টাকা ফি দিতে হবে। এছাড়া জাবেদা কপিতে ১০ পাতার বেশি পাতা হলে সরকারিভাবে আরও কিছু টাকা ফি দিতে হয়।

এছাড়াও ইংরেজি জাবেদা কপি নিতে চাইলে বাংলা জাবেদা কপির রেটের চেয়ে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী অল্পকিছু টাকা বেশি নির্ধারণ করা আছে। কিন্তু রাণীনগর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নকলনবিশ নিয়ে অনুসন্ধানে ধরা পরেছে উল্টে চিত্র। রাণীনগর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নকলনবিশে মোট ২২ জন কর্মরত আছেন। তাদের রয়েছে নকলনবিশ নামধারী এক সমিতি। নকলনবিশের সদস্যরা কেউ সরকারি নির্ধারিত টাকায় দলিলের জাবেদা কপি দেয় না। অবৈধ নামধারী নকলনবিশের সমিতির বেঁধে দেওয়া ১৭শ থেকে ১৮শ টাকা রেটে গ্রহীতাদের জাবেদা কপি দেওয়া হয়। আর সমিতির বেঁধে দেওয়া টাকা না দিলে জাবেদা কপি নিতে অফিসে ঘুরতে হয় মাসের পর মাস।

আরও জানা যায়, রাণীনগর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নকলনবিশের নামধারী অবৈধ এই সমিতি দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, নকলনবিশের সমিতির নামে অতিরিক্ত আদায়কৃত মোটা অংকের অর্থ সমিতির সদস্যদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারার পর এক অংশ চলে যায় সাব রেজিস্ট্রী অফিসের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্তার পকেটে।

 

রাণীনগর সাব-রেজিস্ট্রী অফিসের নকলনবিশ থেকে দলিলের জাবেদা কপি নিয়েছেন উপজেলার পূর্ব বালুভরা গ্রামের কৃষক বিপ্লব শাহ। কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি জানান, নকলনবিশ থেকে জরুরীভাবে আমি ১০ পাতার একটি জাবেদা কপি নিয়েছি। সেই জাবেদা কপিতে সরকারিভাবে সব মিলে রেট লেখা আছে ৯৭০ টাকা। কিন্তু আমার কাছ থেকে ১৭শ টাকা নেওয়া হয়েছে।

জাবেদা কপি গ্রহীতা আতাইকুলা গ্রামের মো. জাহিদ বলেন, নিজের প্রয়োজনে কিছুদিন আগে রাণীনগর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিলের জাবেদা কপি তুলতে যাই। নকলনবিশের এক নারী সদস্য আমার কাছ থেকে ১৭শ টাকা নিয়ে জাবেদা কপি দিয়েছে।

উপজেলার বড়বড়িয়া গ্রামের সাজ্জাদ হোসেন বলেন, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে আমার এক শুভাকাক্ষীর নকল নিতে গিয়েছিলাম। নকলনবিশের সমিতির এক সদস্য জাবেদা কপি দিতে ১৭শ টাকা দাবি করেন। আমি কিছু টাকা কম দিতে চাইলে নকল দিতে তিনি রাজি হয়নি। বাধ্য হয়ে ১৭শ টাকা দিয়েই সেই জাবেদা কপি নিতে হয়েছে।

অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে রাণীনগর সাব-রেজিস্ট্রী অফিসের নকলনবিশের সভাপতি মোছা. আঙ্গুরী দাবি করে বলেন, নকলনবিশে কোন সমিতি নেই। আর জাবেদা কপিতে সরকারি নির্ধারিত রেটের বাহিরে অতিরিক্ত কোন টাকা নেওয়া হয় না।

এ ব্যাপারে মুঠোফোনে বক্তব্য চাইলে রাণীনগর সাব-রেজিস্ট্রী অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার মনিরুজ্জামান কথা বলতে রাজি হননি।



মন্তব্য করুন