সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নারী দিবসে কুবি নারী শিক্ষার্থীদের ভাবনা

শারমিন আক্তার কেয়া, কুবি প্রতিনিধি
৮ মার্চ ২০২৩ ১২:৩৯ |আপডেট : ৯ মার্চ ২০২৩ ০৭:৩৭
নারী দিবসে কুবি নারী শিক্ষার্থীদের ভাবনা
নারী দিবসে কুবি নারী শিক্ষার্থীদের ভাবনা

নারী- কারও মা, কারও বোন, কারও বা অর্ধাঙ্গিনী সব সামলেও সময়ের পরিক্রমায় হয়ে উঠছেন উদ্যোক্তা, দিচ্ছেন নেতৃত্ব আবার নিজের দেশ কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে প্রতিনিধিত্ব করে খেলছেন মাঠেও।

এমনি করে গত এক দশকে এই চিত্র আরও প্রকট হয়েছে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে। ব্যতিক্রম নয় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্রও। 

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি কেউ হয়েছেন উদ্যোক্তা, এসেছেন নেতৃত্বের ভূমিকায়।

এমনি তিন প্রমীলা হলেন আসমা আক্তার মুক্তা, সানজিদা আলম এথিনা এবং ওয়াইদাতুল আকমাম তাসিন। 

৮ই মার্চ আন্তর্জাতিক এই নারী দিবসে এসকল নারী শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে নিজ অবস্থান, নারী দিবসে তাদের ভাবনা ও মতামত তুলে ধরেছে ঢাকা ওয়েভ।

শ্বেতপদ্ম, "নিজের সৃষ্টিশীল মেধা দিয়ে রং তুলিতে শাড়ী কিংবা পাঞ্জাবি রাঙিয়ে নিজেকে স্বাবলম্বী করে এখন একজন সফল উদ্যোক্তা ১২তম আবর্তন

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আসমা আক্তার মুক্তা। শ্বেতপদ্ম নামক অনলাইন পেইজে ব্যবসায় করে চলেছেন নিয়মিত। এর আয় দিয়েই চালাচ্ছেন নিজেকে, অবদান রাখছেন পরিবারেও।

সামাজিক, পারিবারিক সকল বাধাবিঘ্ন কাটিয়ে ওঠা এই নারী উদ্যোক্তা নারী দিবসে তার ভাবনা প্রকাশে জানান,

' নারীদের প্রতি যে শ্রদ্ধা বা সম্মান জানানো প্রয়োজন,তাকে আলাদা কোন গ্রুপ হিসেবে না দেখে সেও যে সমাজের একটা অংশ তাকে সেই সামাজিক, সাংস্কৃতিক, কিংবা অর্থনৈতিক সম্মান দেয়া প্রয়োজন। বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে এসেও কিছু স্টেরিওটাইপ ধারণা রয়ে গেছে সমাজে। নারীরা এখন এগিয়ে যাচ্ছে, ঘরে বাহিরে সবকিছু সামলাচ্ছে। ক্রিকেট, ফুটবল কিংবা ব্যবসায় উদ্যোগে এখন নারী তার জায়গা করে নিচ্ছে প্রতিনিয়ত। তাহলে সমাজে এখন ও শিক্ষায় স্বাস্থ্যে নারীর প্রতি যেসব বৈষম্য কিংবা সহিংসতা এগুলো কেন! এসব বন্ধে আমাদের নারী পুরুষ এর অংশগ্রহণ প্রয়োজন। তাহলেই নারী ও পুরুষ হাতে হাত রেখে সুন্দর সমাজ গঠন করতে সক্ষম হবে। নারীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন কিংবা সমতা রক্ষার বিষয়ে যে আমরা সোচ্চার তা কেবল একটি দিবস ভিত্তিক না হোক বরং প্রতিটি নারী দিবস হোক নারীদের এগিয়ে যাওয়ার পরিমাপক।

স্কেচমি, ''মানুষের জীবনের সুন্দর মূহুর্ত গুলো সাদাকালো পেন্সিলে, সাথে নানা রঙে একেঁ ফ্রেমে আবদ্ধ করা একজন হস্তশিল্পী তার সৃজনশীল এই কর্মকে পুঁজি করে নাম লিখিয়েছেন নারী উদ্যোক্তায়। বলছি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ তম আবর্তনের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী সানজিদা আলম এথিনার গল্প। ২০২০ সালে শখের বসে আকাঁ শুরু করলেও কাজের শৈল্পিক সৌন্দর্য দ্রুতই গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সেই থেকে স্কেচমি অনলাইন পেইজে কাজ করছেন অবিরত।

স্বচ্ছল পরিবারের একজন হয়েও নিজেকে স্বাবলম্বী করতে পারায় নিজেকে স্বাথর্ক মনে করেন তিনি। তাই  নারী দিবসে নারী নিয়ে শুনছিলাম তার ভাবনা, ' বর্তমানে  আমাদের দেশের প্রায় প্রতিটা ক্ষেত্রেই নারীরা পুরুষের সাথে সাথে সমান তালে এগিয়ে যাচ্ছে। নারীর এই অগ্রযাত্রা হোক বাঁধাহীন, পারিবারিক, সামাজিক ও কর্মজীবন সহ প্রতিটা ক্ষেত্রে তাদের পদচারণা হোক নিরাপত্তার সাথে। এর জন্য নারী-পুরুষ সর্বোপরি সকল মানুষকে সচেতন ও মানবিক হতে হবে। পেশা যেমনি হোক প্রতিটা নারীর সম্মান সকল ক্ষেত্রেই হোক সমান।

ছায়া জাতিসংঘ সংস্থা, "পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে দেশের নানা প্রান্তের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা, সমাধানের পথ বাতলাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব করে কাজ করছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছায়া জাতিসংঘ সংস্থা । নানা প্রতিকূলতা কাটিয়ে পুরুষের পাশাপাশি সামনে থেকেই সংগঠনকে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ১১তম আবর্তনের শিক্ষার্থী ওয়াইদাতুল আকমাম তাসিন। ২০২১ সালে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নেতৃত্বে আসেন তিনি। নারী হয়েও সমান তালে চালিয়ে যাচ্ছেন সংগঠন।

নারী দিবসে তাই তার ভাবনা জানিয়েছেন আমাদের,  "একবিংশ শতাব্দীতে পৌঁছালেও নারীর ক্ষমতায়নের মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি আজও নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হচ্ছে। সম্প্রতি জাতিসংঘের মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস মন্তব্য করেন, নারী-পুরুষ সমানাধিকার অর্জনে আরও তিনশো বছর লাগবে। এটা বর্তমান সমাজে নারীর অবস্থানের বহিঃপ্রকাশ বটে, যা সত্যিই হতাশাজনক। আমার ব্যক্তিগত ও শিক্ষাজীবনে আমি লক্ষ্য করেছি, কিভাবে কেবলমাত্র লিঙ্গভেদের কারণে আমাদের সমাজে একজন নারীর প্রতিষ্ঠিত হতে দ্বিগুণ দক্ষতা এবং গুণাবলীর পরিচয় দিতে হয়, তা নাহলে কর্মক্ষেত্রে তার সঠিক মূল্যায়ন করা হয় না। এমন হাজারো অসঙ্গতি আমাকে ভাবায়- সামাজিক, রাজনৈতিক অবকাঠামোতে আসলে কতদূর অগ্রগতি অর্জন করেছি আমরা, কিভাবে সফলতার সাথে এসব প্রতিকূলতার মোকাবিলা করা সম্ভব। আমি বিশ্বাস করি, কেবল নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই মানবসভ্যতাকে এগিয়ে নিতে পারি আমরা। এজন্য লিঙ্গ-দৃঢ়বদ্ধতার মত সমাজের পূর্বনির্ধারিত সূক্ষ্ম দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এবং মননের উৎকর্ষ সাধন করা আবশ্যক।




মন্তব্য করুন