সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ১৪ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

নীলফামারীতে যুবলীগের সভাপতি হলেন ধর্ষণ মামলার আসামি

নীলফামারী প্রতিনিধি
২৬ নভেম্বর ২০২৩ ১৫:১০ |আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০২৩ ১৩:২১
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার নাউতারা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি  মো. মাহমুদুল হাসান নয়ন
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার নাউতারা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মো. মাহমুদুল হাসান নয়ন

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার নাউতারা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি করা হয়েছে শিশু ধর্ষণ মামলার অভিযুক্ত আসামি মো. মাহমুদুল হাসান নয়ন। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম উক্ত কমিটি প্রকাশ পাওয়ার পরই স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

শিশু ধর্ষণ মামলার আসামি সভাপতি হওয়ায় ওই কমিটির একটি বড় অংশ পদত্যাগ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়। এছাড়াও মো. নুরুজ্জামান রুবেল যাকে ওই কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে তিনিও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার বিপক্ষে নির্বাচনে প্রচারণা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

ডিমলা উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহবায়ক মো. ফেরদৌস পারভেজ স্বাক্ষরিত উপজেলা যুবলীগের প্যাডে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই প্যাডে বলা হয় আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন সেন্টার কমিটি দ্রুত গঠনের লক্ষ্যে জেলা কমিটির সাথে পরামর্শক্রমে আগামী এক বছরের জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ ৬ নং নাউতারা ইউনিয়ন শাখার কমিটি অনুমোদন দেওয়া হলো।

স্থানীয় ও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা যায়,‘ডিমলায় নাউতারা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের (প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান) অধ্যক্ষ মাহমুদুল হাসান নয়ন গেল বছরের ২৮ এপ্রিল তারই প্রতিষ্ঠানের ৫ম শ্রেণির ছাত্রীর পরীক্ষার কক্ষে গিয়ে অধ্যক্ষ মাহামুদুল হাসান নয়ন ছাত্রীটির হিজাব ঠিক করার নামে শ্লীলতাহানি করেন। এতে ছাত্রীটি কান্নাকাটি শুরু করলে পরীক্ষা শেষে অফিসে নিয়ে তাকে এ ঘটনা কাউকে না বলার হুমকি দেন অধ্যক্ষ মাহমুদুল হাসান নয়ন। পরে ওই ছাত্রী বিষয়টি তার পরিবারকে জানালে ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার শ্লীলতাহানীর সত্যতা পেলে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। আদালতে বর্তমানে এই মামলা চলমান রয়েছে। মামলা নং-জি.আর-৯০/২২।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এই কমিটি দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়নে এতো যোগ্য নেতাকর্মী থাকা সত্তেও একজন ধর্ষন মামলার আসামিকে সভাপতি করা হলো। যিনি জেলও খেটেছে। মামলাও চলছে আদালতে। তাকে সভাপতি করায় স্থানীয় জনগনের প্রতি বিরুপ প্রভাব পড়েছে। সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামানও নৌকার বিপক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে। এই দুইজনের নেতৃত্বে কমিটি দেওয়ায় নেতাকর্মী ও জনগনের সামনেও যুবলীগেরও ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। এছাড়াও এই কমিটির কোনো নেতাকর্মীই ধর্ষন মামলার আসামির নেতৃত্বে চলবে না। তাই আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমরা অবিলম্বে এই কমিটি বাতিলের দাবি জানাচ্ছি।

কমিটির বিষয়ে নাউতারা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নৌকা প্রতিক নিয়ে নির্বাচিত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম লেলিন বলেন,‘কমিটির সভাপতি মাহমুদুল হাসান নয়ন ধর্ষণ মামলার আসামি। সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুজ্জামান রুবেল আমার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার বিপক্ষে নির্বাচনে প্রচারণা চালায়। যেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে সেখানে তারা নৌকার বিপক্ষে নির্বাচনে প্রচারণা চালায়। তাদের দেওয়া হয়েছে ইউনিয়ন যুবলীগের নেতৃত্ব। তাহলে বলেন দলের কি অবস্থা হবে। কমিটিতে আওয়ামী পরিবারের ছেলে সন্তানদের কোনো প্রাধান্য নেই। জামায়াত-শিবিরের ছেলে সন্তান দিয়ে ভরা।’


এ বিষয়ে ডিমলা উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক শৈলেন চন্দ্র রায় বলেন,‘ডিমলা উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহবায়ক ফেরদৌস পারভেজ যে কমিটি অনুমোদন দিয়েছে তা গঠনতন্ত্র বহির্ভুত। একজন যুগ্ম-আহবায়ক কখনো একটি কমিটি অনুমোদন দিতে পারে না এবং তার দেওয়ারও এখতিয়ার নেই। একটি ইউনিয়ন কমিটি অনুমোদন করতে হলে অবশ্যই উপজেলার যুবলীগের আহবায়কের স্বাক্ষর থাকতে হবে। আহবায়কের স্বাক্ষর ছাড়া কমিটি অনুমোদন হবে না। আর কমিটি দেওয়ার ব্যাপারে ফেরদৌস পারভেজ আমাকে কিছু জানায় নি। প্রভাব খাটিয়ে এককভাবে গঠনতন্ত্র বহির্ভূত কমিটি দিচ্ছে।’


ওই কমিটিতে স্বাক্ষরকারী ডিমলা উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহবায়ক মো. ফেরদৌস পারভেজ বলেন, মাহমুদুল হাসান নয়নের নামে যে মামলা আছে সেটি মিথ্যা মামলা। যোগ্য ব্যক্তিদের কমিটিতে রাখা হয়েছে বলে বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে যান।


এ বিষয়ে জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহিদ মাহমুদ বলেন,‘দলীয় নির্দেশনা আছে কোনো সাংগঠনিক ইউনিটের নতুন করে যেনো কোনো কমিটি ঘোষনা দেওয়া না হয়। নাউতারা ইউনিয়ন কমিটি ঘোষনা দেওয়ার ব্যাপারেও আমি এখনও কিছু জানি না। আর কেউ আমাকেও জানায় নি। আর একজন ধর্ষণ মামলার আসামিকে সভাপতি করা হলে অবশ্যই দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করবে। কেউ লিখিতভাবে আমাকে জানালে বিধি অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’



মন্তব্য করুন