পূর্বাচলের ক্ষত শুকাতে না শুকাতেই ফের উচ্ছেদের শঙ্কা: আতঙ্কে রূপগঞ্জের দুই গ্রামের শতাধিক পরিবার
ছবি : সংগৃহীত
নব্বইয়ের দশকে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের জন্য জমি ছেড়ে দিতে হয়েছিল তাদের। ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে রূপগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়নের শিমুলিয়া ও মুলাদী গ্রামে নতুন করে মাথা গোঁজার ঠাঁই করেছিলেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। কিন্তু তিন দশক পার না হতেই আবারও সেই পুরোনো ক্ষত জেগে উঠেছে। মাথার ওপর নেমে এসেছে দ্বিতীয়বার বাস্তুচ্যুত হওয়ার এক নতুন আতঙ্ক।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, একটি সরকারি সংস্থা শিমুলিয়া ও মুলাদী
গ্রামের প্রায় ৩৮ একর জমি নতুন করে অধিগ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে। এতে অন্তত শতাধিক পরিবারের
বসতভিটা ও জমি হারানোর শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এক জীবনে দু’বার উচ্ছেদের মুখে পড়ে দিশেহারা
হয়ে পড়েছেন দুই গ্রামের মানুষ।
আশ্রয় হারানোর ভয়ে কাতর পরিবারগুলো
পূর্বের অধিগ্রহণে বিশাল পরিমাণের পৈতৃক জমি হারিয়েছিলেন এই এলাকার মানুষজন।
তৎকালীন ক্ষতিপূরণের সামান্য টাকা দিয়ে মাত্র ২ থেকে ৫ শতাংশ জমিতে নতুন করে ঘর তুলেছিলেন
তারা। বর্তমানে এই ছোট ছোট বাড়িগুলোই পরিবারের একমাত্র ঠিকানা।
স্থানীয় অধিবাসীদের আকুতি, জীবনের শেষ সম্বল বলতে আর কিছুই বাকি নেই।
আবারও উচ্ছেদ করা হলে মাথা গোঁজার মতো কোনো স্থান তাদের থাকবে না। একাধিকবার উচ্ছেদের
মতো মানসিক ও আর্থিক ধকল সহ্য করার সক্ষমতা তাদের আর নেই বললেই চলে।
ক্ষতিপূরণ ও জীবিকা নিয়েও দেখা দিয়েছে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অধিগ্রহণের
জন্য সরকারের প্রস্তাবিত ক্ষতিপূরণের হার নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
তাদের মতে, সরকারি রেট বর্তমান বাজারদরের চেয়ে বহু গুণ কম। এই অর্থে আশপাশের এলাকাতেও
এক খণ্ড জমি কিনে ঘর তোলা বা পুনর্বাসিত হওয়া একপ্রকার অসম্ভব।
অন্যদিকে, রূপগঞ্জের এই পরিবারগুলোর অধিকাংশের জীবন ও জীবিকা কৃষিনির্ভর।
বসতভিটার সঙ্গে সঙ্গে চাষের জমি হারিয়ে ফেললে আয়ের একমাত্র পথটি বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে
স্থায়ীভাবে বেকার ও গৃহহীন হয়ে চরম মানবিক সংকটে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বারবার জমি অধিগ্রহণের তোড়জোড়ে বছরের পর বছর অনিশ্চয়তার
মধ্য দিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের। আতঙ্কগ্রস্ত বাসিন্দারা সরকারি সংস্থার কাছে জোর
দাবি জানিয়েছেন, যাতে বর্তমান বসতিগুলো অক্ষত রেখে কোনো বিকল্প চিন্তা করা হয়।
তারা মনে করেন, পূর্বাচল এলাকায় এখনও হাজার হাজার বিঘা খালি জায়গা ও
সরকারি খাস জমি পৌঁছে আছে। স্থানীয়দের ঘরবাড়ি ও বাপ-দাদার ভিটেমাটি না উচ্ছেদ করে
সেইসব খালি জমি বা খাস জমিতে প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
এ অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, পূর্বাচল এলাকায় এখনও হাজার হাজার
বিঘা খালি জমি ও সরকারি খাস জমি রয়েছে। তাই নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বসতিপূর্ণ
গ্রাম উচ্ছেদ না করে ওইসব খালি ও সরকারি খাস জমিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে পুনর্বাসন
বা প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জমি বরাদ্দ দেওয়া হোক। এতে একদিকে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমও
অব্যাহত থাকবে, অন্যদিকে নিরীহ সাধারণ মানুষকে দ্বিতীয়বারের মতো ঘরবাড়ি ও বাপ-দাদার
ভিটেমাটি হারিয়ে উদ্বাস্তু হতে হবে না। উন্নয়নের স্বার্থে সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা
ও বসতভিটা রক্ষায় একটি মানবিক ও টেকসই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট
কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছেন।
এটি হলে একদিকে সরকারি প্রকল্পের কাজও এগোবে, অন্যদিকে অসহায় পরিবারগুলোকেও
দ্বিতীয়বারের মতো উদ্বাস্তু হতে হবে না।
দীর্ঘমেয়াদি এই অনিশ্চয়তা থেকে নিস্তার পেতে প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট
কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্থায়ী এবং মানবিক এক সমাধানের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন
শিমুলিয়া ও মুলাদী গ্রামের মানুষ।
সর্বশেষ খবর
- পূর্বাচলের পর এবার রূপগঞ্জ—আবারও ভিটেমাটি ছাড়ার আতঙ্ক
- আইসিসিবির বিশাল ক্যানভাসে আন্তর্জাতিক শিক্ষামেলা: সঠিক পরামর্শ পেতে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের ভিড়
- পূর্বাচলের ক্ষত শুকাতে না শুকাতেই ফের উচ্ছেদের শঙ্কা: আতঙ্কে রূপগঞ্জের দুই গ্রামের শতাধিক পরিবার
- আবাসন খাতের সরকারি সেবা ডিজিটাল করার দাবি রিহ্যাবের
- জুলাই-পরবর্তী রাজনীতিতে বিরোধিতার নতুন সমীকরণ
মন্তব্য করুন