রবিবার, ১৬ মে ২০২১ | ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

রাবিতে শিক্ষক লাঞ্চিত, গুলি করে হত্যার হুমকি (ভিডিও)

নিজস্ব প্রতিবেদক
৪ মে ২০২১ ১৩:২৮ | আপডেট : ৪ মে ২০২১ ২০:৩৫
Image not found
হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তির একটি মুহূর্ত।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সিন্ডিকেট সভাকে কেন্দ্র করে শিক্ষক ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। চাকরি প্রত্যাশী এক শিক্ষার্থী শিক্ষকদের গুলি করার হুমকি দেওয়ার পরপরই বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানের মেয়াদের শেষ সিন্ডিকেট তার বাসভবনে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। সিন্ডিকেট সভা প্রতিহত করতে সকালে মূল ফটকে অবস্থান নেয় শিক্ষকরা। শিক্ষকদের বাধার মুখে ১১টার দিকে সভা স্থগিত করতে বাধ্য হয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এর আগে উপাচার্যের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে দুর্নীতি বিরোধী শিক্ষক সমাজ। আগামী ৬ মে উপাচার্যের মেয়াদ শেষ হবে।

তবে আগে থেকেই উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেয় ছাত্রলীগের বর্তমান ও সাবেক নেতাকর্মীরা। সকাল ১০টা ১৫টার দিকে উপাচার্যের সাথে সাক্ষাৎ করার উদ্দেশ্য তার বাসভবনে ঢোকার চেষ্টা করলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পড়েন শিক্ষকেরা। এসময় ছাত্রলীগকে নিবৃত্ত করার জন্য প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমানের কাছে অনুরোধ জানান শিক্ষকেরা।

ঘটনার একপর্যায়ে পুলিশ এবং প্রক্টরিয়াল বডির উপস্থিতিতেই শিক্ষকদের সাথে ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে পড়েন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দ্বারা লাঞ্ছিত হন। এসময় প্রক্টরও লাঞ্ছিত হয়েছেন।

এ ঘটনার সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে থেকে এক যুবক শিক্ষকদেরকে গুলি করার হুমকি দেয়। জানা যায়, হুমকিদাতা ওই যুবকের নাম আকাশ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মেহেরচন্ডী এলাকার বাসিন্দা। তবে আকাশ রাবি ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত নয় বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া। তিনি বলেন, আকাশ নামের ওই যুবক চাকরি প্রত্যাশী। সে স্থানীয় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

এদিকে দুর্নীতি বিরোধী শিক্ষকদের মধ্যে বাংলা বিভাগের শিক্ষক শফিকুন্নবি সামাদী বলেন, আমরা উপাচার্যের সাথে সাক্ষাৎ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাদেরকে প্রবেশ করতে বাধা দেয়া হয়। এমনকি আমাদের গুলি করার হুমকি দেয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরকে এভাবে হুমকি দেয়ার সাহস কেউ রাখে না। এটি আমাদের নিরাপত্তার বিষয়। এর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দায়ী।





মন্তব্য করুন