প্রস্তাবিত বাজেটে লিফটের ওপর অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক মওকুফে প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেদন
প্রধানমন্ত্রী বরাবর বাংলাদেশ এলিভেটর, এসকেলেটরস এন্ড লিফট ইমপোর্টার্স এসোসিয়েশন (বেলিয়া) এর আবেদন
২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে লিফট (HS CODE: 8428.10.00) এর উপর আরোপিত অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক মওকুফ করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর আকুল আবেদন করেছে বাংলাদেশ এলিভেটর, এসকেলেটরস এন্ড লিফট ইমপোর্টার্স এসোসিয়েশন (বেলিয়া)। এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এক প্রেস নোটে এই আবেদন জানানো হয়।
প্রেস নোটে উল্লেখ করা হয়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর “শহরভিত্তিক উন্নয়নের পাশাপাশি গ্রাম হবে শহর” স্লোগানকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে উন্নয়নের যে জোয়ার তৈরি হয়েছে তা বাস্তবায়ন করতে গেলে বিল্ডিংয়ে ওঠানামায় লিফটের বিকল্প অন্যকোনো প্রযুক্তি নেই। তাই প্রধানমন্ত্রীর স্লোগান বাস্তবায়ন করতে গেলে ভোক্তাপর্য়ায়ে দামসহনীয় রাখার জন্য আমদানিকৃত লিফটের ওপর অতিরিক্ত যে কর আরোপিত হতে যাচ্ছে তা বাস্তবায়িত হলে, সেটা হবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্লোগান পরিপন্থী পদক্ষেপ।
সম্প্রতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় বলেছেন, ‘দেশীয় শিল্পের প্রসারের স্বার্থে এবং আমদানি নিরুৎসাহিতকরণের লক্ষ্যে পণ্যটি (লিফট) মূলধনী যন্ত্রপাতি সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন হতে প্রত্যাহার করে আমদানি পর্যায়ে ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপসহ সর্বমোট করভার ৩১ শতাংশ ধার্যের প্রস্তাব করছি (সূত্র : প্রথম আলো ৯ জুন, ২০২২)
বর্তমান অবস্থায় আমদানিকারকদের ওপর ক্ষতিকর প্রভাবগুলো:
১. কোভিড-১৯ পরবর্তী বিশ্বজুড়ে সরবরাহ সংকট তৈরি হয় যার ফলশ্রুতিতে জাহাজ ভাড়া ৭-৮ গুণ বেড়ে যায় যা এখন পর্যন্ত বিদ্যমান, ফলে সকল আমদানিকারকগণ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং হচ্ছে।
২. বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় মূল্য ওঠানামা করার কারণে প্রতিটি লিফটের ওপর ১৮-২০% অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধি হচ্ছে।
৩. বৈদেশিক মুদ্রার সংকট নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক আরোপিত এলসি খোলার মার্জিন ৫০-৭৫ শতাংশ হওয়ায় আমদানিকারকদের চলতি মূলধনের উপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
উপরোক্ত প্রভাবগুলোর ফলে ইতোমধ্যেই প্রতিটি লিফটের দাম ৫০শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, এমতাবস্থায় অপরিহার্য পণ্যের (লিফট) উপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ হলে তা মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাহিরে চলে যাবে এবং সরকারের ঘোষিত উন্নয়নে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে।
জনজীবনের উপর ক্ষতিকর প্রভাব:
১. শতাধিক কোম্পানি দেউলিয়া হয়ে যাবে
২. এই সেক্টরে কর্মরত লক্ষাধিক কর্মচারি বেকার হয়ে পড়বে।
৩. কোটিরও বেশি লিফট ব্যবহারকারী তাদের রক্ষণাবেক্ষণ সেবা থেকে বঞ্চিত হবে এবং ব্যবহারকারীরা নিরাপত্তা ঝুঁকির সম্মুখিন হতে পারে।
৪. নির্মাণশিল্পের অপরিহার্য অন্যান্য উপকরণের পাশাপাশি লিফটের দাম বেড়ে গেলে সরকারি এবং বেসরকারি পর্যায়ে ভবন নির্মাণ তথা উন্নয়ন ব্যয় বেড়ে যাবে, ফ্লাটের ভাড়া মানুষের নাগালের বাহিরে চলে যাবে।
আমাদের আবেদনঃ
উল্লেখ্য যে, লিফট মানুষ পরিবহন করে তাই সারাবিশ্বে লিফট তৈরির ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা বিষয়ে যথাযথ মান নিয়ন্ত্রণ করা হয়। কিন্তু আমাদের দেশে লিফট তৈরির নীতিমালা ও মান নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠিত না হওয়ার ফলে সক্ষমতা অর্জনের আগেই শুধুমাত্র সংযোজন লাইসেন্স প্রদান জনজীবনে ঝুঁকির কারণ হতে পারে।
আরও উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশে লিফট সেক্টরের উন্নয়ন কল্পে এবং প্রয়োজনীয় নীতি নির্ধারণ, আইন প্রণয়ন, সেফটি স্ট্যান্ডার্ড ও রেগুলেটরি বডি প্রণয়নের উপযুক্ততা বিবেচনায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই ২০২১ সালের নভেম্বর মাসে বাংলাদেশ এলিভেটর, এসকেলেটরস এন্ড লিফট ইমপোর্টার্স এসোসিয়েশন (বেলিয়া) জন্য লাইসেন্স প্রদান করেছেন। আগামীতে ’’বেলিয়া” সরকারের সাথে একযোগে এই আমদানি নির্ভর সেক্টরের বিকল্প পন্থা প্রণয়ণ, সেফটি এবং স্ট্যান্ডার্ড প্রণয়ন, রেগুলেটরি বডি প্রণয়ন ইত্যাদি কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করছে। এমতাবস্থায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রস্তাবিত অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করে লিফটকে মূলধনী যন্ত্রাংশে পুনর্বহাল রাখার জন্য জনবান্ধব সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ, মন্ত্রণালয় এবং সর্বোপরি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বরাবরে আকুল আবেদন করছি।
মন্তব্য করুন