শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬ | ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিসি মোস্তাক সরকার

মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় মোটরসাইকেল আরোহীর মাথায় ইট নিক্ষেপ

নিজস্ব প্রতিবেদক
১২ জুন ২০২৬ ২৩:০৩
ছবি :সংগৃহীত
ছবি :সংগৃহীত

রাজধানীর কাফরুলে মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ার জেরে মোটরসাইকেল আরোহী রাফির মাথায় ইট ছুড়ে মারার ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এই হামলার রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এ ঘটনায় জড়িত আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. পারভেজ (৩০) ও আনোয়ার হোসেন বাবু (৩২)। মামলার অপর দুই আসামি মো. ফয়সাল ওরফে কালু এবং আমিনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোস্তাক সরকার।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, গত মঙ্গলবার (১০ জুন) রাত আনুমানিক ১টা ২০ মিনিটে কাফরুল থানাধীন পূর্ব শেওড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ডের প্রায় ১০০ গজ পূর্বে ইব্রাহিমপুর পাকা সড়কে এই ঘটনা ঘটে। রাফি নামের ওই যুবক মোটরসাইকেলে করে বাসায় ফেরার পথে তার ওপর পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়। পূর্ব শত্রুতার জেরে দুর্বৃত্তরা তার মাথার ডান পাশে সজোরে ইট নিক্ষেপ করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মোটরসাইকেলসহ সড়কে ছিটকে পড়েন।

মোস্তাক সরকার বলেন, ঘটনার পরপরই হামলাকারীরা বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তাৎক্ষণিকভাবে একটি অটোরিকশায় করে আহত রাফিকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়। পুরো ঘটনাটি কাছের একটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় আহত রাফির চাচা নুর হোসেন বাদী হয়ে কাফরুল থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন।

তিনি আরও বলেন, মামলার পর ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত চারজনকে শনাক্ত করা হয়। তদন্তের ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (১১ জুন) কাফরুল থানার একটি চৌকস দল ময়মনসিংহ জেলার ধোবাউড়া থানার ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে প্রধান অভিযুক্ত পারভেজকে গ্রেপ্তার করে। একই সময়ে পুলিশের অপর একটি দল রাজধানীর ইব্রাহিমপুর এলাকা থেকে আনোয়ার হোসেন বাবুকে গ্রেপ্তার করে। এছাড়া ঘটনাস্থলের অদূরে পরিত্যক্ত অবস্থায় ভিকটিমের মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে।

হামলার কারণ সম্পর্কে পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, গ্রেপ্তার পারভেজ একসময় ভিকটিম রাফির বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতেন। সেই সূত্রে তাদের মধ্যে পরিচয় ছিল। পরবর্তীতে পারভেজ ও তার সহযোগীরা এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়লে রাফি তাতে বাধা দেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে তীব্র বিরোধের সৃষ্টি হয়। ঘটনার আগের দিন সন্ধ্যায় রাফির সঙ্গে পারভেজ ও কালুর কথাকাটাকাটি হয় এবং তারা রাফিকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরদিন রাত ১টার দিকে পারভেজ, কালু, বাবু ও আমিন পূর্ব শেওড়াপাড়ায় ওত পেতে থাকেন। রাফি মোটরসাইকেল নিয়ে সেখানে পৌঁছালে আমিন তার গতিরোধ করার চেষ্টা করে। মোটরসাইকেল না থামিয়ে চলে যাওয়ার সময় পারভেজ ইট ছুড়ে তার মাথায় আঘাত করে।

ডিসি মোস্তাক সরকার বলেন, ঘটনার পর আসামিরা পুরো বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চালায়। তারা আশপাশের লোকজনকে বিভ্রান্ত করতে বলেন যে উপর থেকে ইট পড়ে রাফি আহত হয়েছেন। এরপর তারা আহত রাফিকে অটোরিকশায় তুলে ইব্রাহিমপুর এলাকায় নির্জন স্থানে ফেলে রেখে পালিয়ে যান। প্রধান অভিযুক্ত পারভেজ ও পলাতক ফয়সাল ওরফে কালুর বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন এবং বাকিদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত আছে।



মন্তব্য করুন